শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

আমাদের সঙ্গীত গুরুকুলে সহ শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা দেবার ঘেষনা করলো ইয়ুথ গ্লোবাল। গতকাল ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতার ঘোষণা দিলেন ইয়ুথ গ্লোবাল ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ড. সীমা হামিদ। গতকাল সন্ধ্যায় মাদানি এভিনিউ সংলগ্ন “ইচ্ছে বাড়ি”তে শিল্পী-কলাকুশলীদের নিয়ে আয়োজিত “আসুন আলাপ করিয়ে দেই” শিরনামে এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন।

শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

তিনি জানান গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্কের তত্ববধানে গড়ে ওঠা শিল্প-সংস্কৃতি বিষয়ক ১৪ টি প্লাটফর্ম কে তারা নির্বাচিত করেছেন পৃষ্ঠপোষকতার জন্য। এই প্লাটফর্মগুলো বর্তমানে শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি বিশেষায়িত শাখা নিয়ে কাজ করছে। এই প্লাটফরম গুলোর জন্য তার ফাউন্ডেশন এক্সেলেটর হিসেবে কাজ করবে।

উক্ত প্লাটফরম গুলো এতদিন মূলত উক্ত খাতগুলোর শিক্ষা নিয়ে কাজ করছিল। তার ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় শিক্ষার পাশাপাশি তারা শিল্পগুলোর ভিত্তি মজবুত করা ও সম্প্রসারণের কাজ করবে।

আয়োজকরা জানান, তার ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিটি প্লাটফরম থেকে বছরে একজন শিক্ষার্থী বা গবেষককে এগিয়ে দিতে বৃত্তি দেয়া হবে। এ বিষয়ে ড. সীমা হামিদ বলেন “এসব প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে, প্রাথমিক শিক্ষাটা শেষ করে, যারা যথাযথ মেধা ও আগ্রহের পরিচয় দিতে পারবেন, তাদের মধ্য থেকে ১ জনকে, প্রতি বছর আমরা স্কলারশিপের আওতায় নিয়ে আসবো। অর্থাৎ মোট ১৪ টি স্কলারশিপ আমরা দেব। স্কলারশিপ হতে পারে দেশে-বিদেশে অধিকতর তালিমের জন্য, হতে পারে নিবেদিত হয়ে রেয়াজ করার জন্য। আবার ওই বিষয়ে গবেষণার জন্যও হতে পারে।“

আসুন আলাপ করিয়ে দেই Cultural Night Art Culture Gurukul Youth Global Foundation 229 শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

আরও জানা যায় ইয়ুথ গ্লোবালের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতি বছর ওই ১৪ টি প্লাটফরম থেকে প্রতিটি খাতে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হবে। এ বিষয়ে ড. সীমা হামিদ বলেন “আমরা বিশ্বাস করি, গুনি মানুষদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে আরও গুনি মানুষ তৈরিতে উৎসাহ যায়।“

এছাড়া ড. সীমা হামিদ জানান- অনলাইনের পাশাপাশি, দেশে ও বিদেশের সাংস্কৃতিসবীদেরকে, বাংলাদেশি শিল্পীদের কাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে কাজ করবে ইয়ুথ গ্লোবাল।
উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন গুরুকুল অনলাইন নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠান “আর্ট এন্ড কালচার গুরুকুল” এর প্রধান গুরু ও সম্পাদক – পণ্ডিত অসিত দে। তিনি বলেন “শিল্প-সংস্কৃতি সেই অর্থে বাংলাদেশে এখনো ইন্ডাস্টি হয়ে ওঠেনি। প্রযুক্তি পরিবর্তনের কারণেও নানামুখী নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় এটিকে একটি পর্যায়ে নিতে ব্যক্তি, সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরী। আমরা ইয়ুথ গ্লোবাল ফাউন্ডেশন বিশেষকরে জনাব ড. সীমা হামিদ এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এই উদ্যোগগুলিকে এগিয়ে নেবার জন্য। “

আসুন আলাপ করিয়ে দেই Cultural Night Art Culture Gurukul Youth Global Foundation 126 শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

অনুষ্টানে আরও কথা বলেন – নৃত্য গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “ইমন কুমার দে”, চলচ্চিত্র গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “নাজমুন নাফিজ খান”, লোকগান গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “কামরুজ্জামান রাব্বী”, আমার নজরুল এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “প্রমিতা দে”, বাচিকশিল্প গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “হাসান সালেহ জয়”, বেহালা গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “সংহিতা চক্রবর্তী”, অভিনয় গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “রউফুর রহিম প্রিত্থিশ”, আমার রবীন্দ্রনাথ এর ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “দীপ্র নিশান্ত”, তবলা গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ” রতন কুমার দাস”, বাশি গুরুকুলের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর “মুস্তাকীম আবির” এবং আর্ট এন্ড কালচার গুরুকুলের কার্য নির্বাহী প্রধান, নিশিত দে।

অনুষ্ঠানে উদ্যোগগুলোকে আশির্বাদ করতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২০০ জন শিল্প-সংস্কৃতির বিভিন্ন খাতের শিক্ষক, শিল্পী, কলাকুশলী, সমালোচক। উদ্বোধনি সমাবেশের পরে আর্ট এন্ড কালচার গুরুকুলের শিক্ষকবৃন্দ, মুস্তাকীম আবিরের একক বাশি পরিবেশনা, এবং সংহিতা চক্রবর্তী ও নিশিত দে’র সেতার-বেহালা যুগলবন্দি পরিবেশন করেন। তবলাতে সংগত করেন প্রশান্ত ভৌমিক।

অনুষ্টানস্থলে একটি উদ্যোগগুলোর ফেসবুক, ইউটিউব, ওয়েবসাইট দেখার জন্য হেড-ফোন সহ কম্পিউটার সহ একটি কর্নারের ব্যবস্থা ছিল যেখানে আগত অতিথিবৃন্দ উদ্যোগগুলো দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

আসুন আলাপ করিয়ে দেই Cultural Night Art Culture Gurukul Youth Global Foundation 143 শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

যে ১৪ টি প্লাটফরম নির্বাচিত হল:

১. সেতার গুরুকুল [ Sitar Gurukul, GOLN ]:
এ পর্যন্ত শতাধিক সেতার শিক্ষার টিউটোরিয়ার প্রকাশ করেছে। দেশ সব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা শিখছে।

২. বেহালা গুরুকুল [Violin Gurukul, GOLN]:
৩ টি ভাষায় (বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি) শিক্ষার টিউটোরিয়ার প্রকাশ করেছে। দেশ সব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা শিখছে।

৩. বাঁশি গুরুকুল [ Bansuri Gurukul, GOLN ]
এ পর্যন্ত শতাধিক বাঁশি শিক্ষার টিউটোরিয়ার প্রকাশ করেছে। দেশ সব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলা ও ইংরেজি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীরা শিখছে।

৪. আমার রবীন্দ্রনাথ [ Amar Rabindranath, GOLN ]
রবীন্দ্রনাথের সব রকমের সৃষ্টি নিয়ে কাজ করছে।

৫. আমার নজরুল [ Amar Nazrul, GOLN ]
নজরুলের সব রকমের সৃষ্টি নিয়ে কাজ করছে।

৬. অভিনয় গুরুকুল [ Acting Gurukul, GOLN ]:
অভিনয় শিল্প নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

৭. চলচ্চিত্র গুরুকুল [ Film Gurukul, GOLN ]:
চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষা নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

৮. ফাইন আর্টস গুরুকুল [ Fine Arts Gurukul, GOLN ]
ফাইন আর্টসের শাখাগুলো নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

৯. বাচিকশিল্প গুরুকুল [ Recitation Gurukul, GOLN]
বাচিকশিল্পের শাখাগুলো নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

১০. নৃত্য গুরুকুল [ Dance Gurukul,GOLN ]
নৃত্যের বিভিন্ন শাখা নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

১১. তবলা গুরুকুল [ Tabla Gurukul, GOLN ]
তবলা শিক্ষা নিয়ে ইতমধ্যে এই প্লাটফরমটি শতাধিক টিউটোরিয়াল প্রকাশ করেছে। তবলা শিক্ষা ও পারফর্মেন্স নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

১২. শাস্ত্রীয় সঙ্গীত গুরুকুল [ Classical Gurukul, GOLN]
শাস্ত্রীয় ও উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীতের শিক্ষা ও চর্চা নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

১৩. লোকগান গুরকুল [ Folk Gurukul, GOLN ]
বাংলাদেশের লোকগানের শিক্ষা ও চর্চা নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

১৪. সঙ্গীত গুরুকুল [ Music Gurukul, GOLN]
সব ধরণের সঙ্গীতের শিক্ষা, চর্চা ও প্রসার নিয়ে এই প্লাটফরমটি কাজ করছে।

 

আসুন আলাপ করিয়ে দেই Cultural Night Art Culture Gurukul Youth Global Foundation 145 শিল্প-সংস্কৃতির ১৪ টি প্লাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে ইয়ুথ গ্লোবাল !

উক্ত অনুষ্ঠানে ড. সীমা হামিদের সম্পূর্ণ বক্তৃতা:

প্রিয় উপস্থিতি,
১/
আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর আগে, ইমাম উল হিন্দ, মওলানা আবুল কালাম আজাদ, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে জেলে বসে, তার প্রিয় বন্ধু মৌলানা হাবিবুর রহমান খান শেরওয়ানীর কাছে চিঠিতে লিখছেন:

“আপনাকে একটা কথা জানাই,
আমি বারবার আমার তনুমনের পরীক্ষা নিয়ে দেখেছি – জীবনে প্রয়োজনীয় সবকিছু ছেড়েও আমি সুখী থাকতে পারবো, কিন্তু সঙ্গীত ছাড়া আমি বেঁচে থাকতে পারবো না।
“আওয়াজ-ই-খুশ” বা সঙ্গীত আমার জন্য জীবন যাপনের সহায়, সকল মানসিক সংগ্রামের আশ্রয়, শরীর ও হৃদয়ের সমস্ত রোগের নিরাময়।“

আপনারা জেনে থাকবেন এত বড় রাজনীতিবিদ, এত জ্ঞানী এবং প্রজ্ঞাবান ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের একান্ত সঙ্গী ছিল সঙ্গীত। বিশেষকরে সেতার। তিনি ওই চিঠিতেই বর্ণনা করেছেন, তাজমহলে রাত্রিবেলা সেতার বাজানোর নৈসর্গিক অভিজ্ঞতার কথা।

আপনারা জানেন বঙ্গবন্ধুকে সারা জীবন কিভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। কিভাবে তিনি “আমার সাধ না মিটিল …” গানটিতে পান্নালালের গলায় তার অনুভব খুঁজে পেয়েছেন। আমাদের শিল্পীরা তাকে সহ বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংগ্রামের প্রতিজন যোদ্ধাকে কিভাবে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। কিভাবে শিল্প-সংস্কৃতি মুক্তিযুদ্ধের সময় রাইফেল বন্দুকের সাথে পাল্লা দিয়েছে অস্ত্র হিসেবে।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনিষ্টাইনের একান্ত সঙ্গী ছিল তার বেহালা। শিল্প সংস্কৃতি নিয়ে এরকম আরও কত শত ঘটনা রয়েছে ……
বিখ্যাত দার্শনিক, বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে, পৃথিবীর সকল বড় মানুষের একান্তে গেলেই আমরা দেখি শিল্প-সংস্কৃতির অন্তত একটি শাখার সাথে তার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক।

আমি মনে করি শুধুমাত্র সঙ্গীত নয়, শিল্প-সংস্কৃতির প্রতিটি শাখা মানব সভ্যতার উত্তর উত্তর উৎকর্ষের পিছনে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

শুধুমাত্র বড় মানুষই নয়, আমাদের মতো সাধারণ ক্ষুদ্র মানুষদের একান্তের আশ্রয়ও সেই একই জিনিস। তবে – যে মানুষ বা জিনিস আমাদের খুব কাছে থাকে, আমাদের সাথে অঙ্গাঙ্গিক ভাবে জড়িয়ে থাকে, তার গুরুত্ব আমরা বেশিরভাগ সময় বুঝি না। Granted ধরে নেই। তাকে নিয়ে আলাদা করে ভাবা বা আয়োজন করার বিশেষ তাগাদা অনুভব করি না। আমাদের এই ব্যস্ত-দৌড়-ছুটের জীবনে শিল্প-সংস্কৃতির অবস্থা তাই হয়ে গেছে। যা আছে তার কাছে আশ্রয় খুঁজি ঠিক। মনের মতো হচ্ছে না বলে অভিযোগও করি। কিন্তু মনের মতো করে নেবার উদ্যোগ আর নেয়া হয়ে ওঠে না।

কিন্তু সব সম্পর্ক যত্নের দরকার হয়। সব সাথীর প্রতি মনোযোগের দরকার হয়। শিল্প-সংস্কৃতিও তার বাইরে নয়। আজ তেমনই কিছু উদ্যোগের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে, আপনাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।

২/
আমাদের আজকের সংস্কৃতি দাড়িয়ে আছে আমাদের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ভিত্তির উপরে। যেটা আমাদের পুর্বজননেরা আমাদের জন্য তৈরি করে গিয়েছেন।

সেই ভিত্তিতে সাহিত্যে আছে চর্যাপদ, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলী, পদ্মাবতী, নসীহতনামা, নূরনামা, কারবালা সহ বহু নাম।
সঙ্গীতে আছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, আছে নানা রকম উপশাস্ত্রীয় সঙ্গীত। আর লোকসঙ্গীতের সমুদ্র তো আছেই।

বিশেষ করে বিগত দুশো বছরে, আমাদের পুর্বজনরা, শিল্প-সংস্কৃতির ভিত্তির প্রতিটি স্তম্ভ, যথেষ্ট মাত্রায় পুষ্ট করে দিয়ে গেছেন।
তবে শিল্প-সংস্কৃতি এমন জিনিস নয়, যেটা একবারে চূড়ান্ত উন্নয়ন করে শেষ করে দেয়া যায়। সেরকম শেষ করলে বরং মৃত্যু ঘটে। তাকে প্রতিদিন চর্চা করে আরও শানিত করতে হয়, পরিশীলিত করতে হয়, সময়োপযোগী করতে হয়। তবেই সমসাময়িক ও আগামী সংস্কৃতি-সেবীদের ক্ষুধা মেটে। জীবন্ত সংস্কৃতিও এগিয়ে চলে।

এজন্যই আমাদের পুর্বজনদের রচিত ভিত্তির উপর দাড়িয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এই প্রয়োজনটিকে আমাদের পিতৃঋণ / মাতৃঋণ বিবেচনা করতে হবে।

আমাদের আজকের আয়োজন সেরকম ১৪ টি উদ্যোগের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। পাশাপাশি আমরা জানাবো, এসব উদ্যোগ নিয়ে আমরা কি কি করতে চাই।

৩/
সান্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকগান, রবীন্দ্র সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত, সেতার, বেহালা, বাঁশি, তবলা, নৃত্য, আবৃত্তি, অভিনয়, চলচ্চিত্র, ফাইন আর্ট নিয়ে ১৪ টি উদ্যোগ। এই উদ্যোগগুলো গুছিয়ে প্রাথমিক ভাবে প্লাটফরম দিয়েছে গুরুকুল অনলাইন লার্নিং নেটওয়ার্ক।

প্রতিটি উদ্যোগের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ওই বিষয়টিতে সবার আগ্রহ তৈরি করা। ওই আর্ট ফর্মটি বুঝে রস নেবার কায়দা ধরিয়ে দেয়া। এরপর যারা আগ্রহ আরও আগাবে, তাকে আর্ট ফর্মটি শেখা বা চর্চা করার জন্য প্রাথমিক রসদ হিসেবে – ভিডিও টিউটোরিয়াল, গাইডলাইন সরবরাহ করা।

এই কাজগুলো করার জন্য তারা প্রতিটি বিষয়ে ইতিমধ্যে পাঁচশো এর বেশি ভিডিও টিউটোরিয়াল, অসংখ্য আর্টিকেল তৈরি করেছে। তৈরি করছে উক্ত বিষয়ে বিশেষায়িত তথ্য ভাণ্ডার। এগুলো আপনারা ইউটিউব, ফেসবুক এবং ওয়েবসাইটে পেয়ে যাবেন। প্রদর্শনের জন্য এখানে আমরা ব্যবস্থাও রেখেছি।

এখন এটাকে আরেকধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। আর দেশের এ ধরণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতেই কাজ করে আমাদের ইয়ুথ গ্লোবাল ফাউন্ডেশন।

আমরা ইয়ুথ গ্লোবালের পক্ষ থেকে, এই যাত্রাকে চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, আরও এগিয়ে নিতে একটি রূপরেখা তৈরি করেছি। তার দু একটি বিষয় আপনাদের অবগতির জন্য বলবো।

এসব প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে, প্রাথমিক শিক্ষাটা শেষ করে, যারা যথাযথ মেধা ও আগ্রহের পরিচয় দিতে পারবেন, তাদের মধ্য থেকে ১ জনকে, প্রতি বছর আমরা স্কলারশিপের আওতায় নিয়ে আসবো। অর্থাৎ মোট ১৪ স্কলারশিপ আমরা দেব। স্কলারশিপ হতে পারে দেশে-বিদেশে অধিকতর তালিমের জন্য, হতে পারে নিবেদিত হয়ে রেয়াজ করার জন্য। আবার ওই বিষয়ে গবেষণার জন্যও হতে পারে।

এর পাশাপাশি ওই খাতে বিশেষ অবদানের প্রতি বছর ১ জন শিল্পীকে সম্মান জানাতে চাই। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, গুনি মানুষদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে আরও গুনি মানুষ তৈরিতে উৎসাহ যায়।

এছাড়া অনলাইনের পাশাপাশি, দেশে ও বিদেশের সাংস্কৃতিসবীদেরকে, আমাদের দেশি শিল্পীদের কাজের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

যাত্রাপথে অভিজ্ঞতার সাথে সাথে আমরা আরও নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করবে।

৪/
আজ আপনারা যারা এখানে সমবেত, তারা কোন না কোন ভাবে আর্ট কালচারের কোন একটি বিষয়ের সাথে যুক্ত। আপনাদের সবাইকে আহবান করবো, আসুন এই প্লাটফরমগুলোর পূর্ণ ব্যবহার করি। প্লাটফরমগুলো দেখুন, যোগ দিন। আপনার পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনা প্ল্যাটফর্মগুলোকে সাহায্য করবে।

আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিবেশী দেশ যদি আর্ট কালচারকে একটি বৃহৎ ইন্ডাস্ট্রির রূপ দিতে পারে। লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম খাত বানাতে পারে, তবে আমরাও পারবো। কারণ আমরা একই সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। একই জায়গা থেকে আমরা আলাদা হয়েছিলাম। তারা অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা নানাবিধ কারণে ততটা আগাতে পারিনি।

তবে আগানোর অন্তরায় যেসব কারণ ছিল, তার বেশিরভাগ এখন শেষ হতে চলেছে। এখন সার্বিক পরিস্থিতি সংস্কৃতি চর্চার অনুকূলে। এই সময়টির সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

আমাদের সবার সন্তানকে সাংস্কৃতিমনা করে গড়ে তুলতে হবে। যারা শিল্প-সাংস্কৃতিকে পেশা বানাতে চান, তাদের পরিবেশনা আরও পরিশীলিত-আন্তর্জাতিক মানের করতে হবে। সেই সাথে সমাজের যারা সামর্থবান মানুষ আছেন, তাদেরকে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাশে দাঁড়াতে হবে।

আপনারা সবাই ভালো থাকবেন, আজকের সন্ধাটি ভালোভাবে উপভোগ করুন …

অনুষ্ঠানের ফটো এ্যলবাম:

FacebookTwitterEmailShare

Leave a Comment